প্রচ্ছদ > জাতীয় >

৭ মার্চের ভাষণ বাজানোয় গ্রেফতার ইমিসহ তিনজনের জামিন নামঞ্জুর

article-img

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেফতার ‘স্লোগান ৭১’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।

সোমবার (৯ মার্চ) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

ইমি ছাড়াও মামলার অপর দুই আসামি হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক মো. আসিফ আহমেদ সৈকত এবং সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।

আদালতে ইমির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনির হোসেন। আসিফ আহমেদ সৈকতের পক্ষে তরিকুল ইসলাম এবং আবদুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী গোলাম রাব্বানী।

শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেছেন বলে জানান আবদুল্লাহ আল মামুনের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার বিকালে চানখাঁরপুল মোড়ে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর সময় দুজনকে আটক করা হয়। তাদের একজন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ এবং অন্যজন মাইক অপারেটর।

এই দুইজনকে আটকের প্রতিবাদে ইমিসহ কয়েকজন রিকশায় মাইক বসিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী ছিলেন ইমি।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে কয়েকজন এসে তাদের মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে ফেলে। এতে আয়োজকদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

হাতাহাতির পর ইমিসহ অন্যরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে ডাকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা যান।

পরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের রিকশাটি টেনে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান।

এ সময় ইমির সঙ্গে থাকা আবদুল্লাহ আল মামুনকে ছাত্রলীগের তকমা দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে থানার ফটকে নিয়ে মারধর করা হয়। ইমিকেও মারধরের অভিযোগ ওঠে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর আবদুল্লাহ আল মামুন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

পরে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা ইমি ও মামুনকে ধরে টেনে-হিঁচড়ে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

রোববার শাহবাগ থানা পুলিশ ইমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা ‘মসজিদের দিকে মুখ করে লাউডস্পিকারে উস্কানিমূলক স্লোগান দেন’। তারা ‘সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম ‘সচল’ করার চেষ্টা করেন।

এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং থানা হেফাজত থেকে আসিফ আহমেদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ডাকসু প্রতিনিধি এ বি জুবায়ের এবং মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী আবদুল আল মামুন ও শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।